ব্রান্ড কি? কোম্পানি কি? ব্রান্ড ও কোম্পানি – এর মধ্যে পার্থক্য কী কী?

ব্রান্ড.jpg

আগে কোম্পানি, তারপর আসবে ব্রান্ড এর কথা । টাকা থাকলেই কোম্পানি গঠন করা সহজ। কিন্তু সেই কোম্পানি গঠন হওয়ার সেটিকে ব্রান্ড এ পরিণত করা অনেক কঠিন কাজ। এক্ষেত্রে একটি কোম্পানিকে অনেক কৌশলগত পদ্ধতি ব্যাবহার এবং অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। একদিনেই সবাই ব্রান্ড হতে পারে নাহ, অনেককেই শুরুতে ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে যেটে হয়। সেটি ব্র্যান্ড হওয়ার পরও, এমনও ঝুঁকি থাকে যে ব্র্যান্ড হয়েও একটা সময় দীর্ঘদিনের ব্র্যান্ড তকমা হারাতে হয়।

কোম্পানি কী?
কোম্পানি হচ্ছে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গঠিত একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা। এ ধরনের সত্তার মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন, তা নিজেদের মধ্যে বন্টন করা হোক বা না হোক।

ব্র্যান্ড কি? সেটা জানার আগে জানি ব্র্যান্ডিং কি?

ব্রান্ডিং কি?
কাস্টমারের মনে একটি পণ্যের ইউনিক বা অনন্য নাম এবং পরিচিতি তৈরি করাকে ব্র্যান্ডিং বলা হয়। এক কথায় বলতে গেলে ব্র্যান্ডিং হচ্ছে আপনার ক্রেতা বা কাস্টোমারের প্রতি আপনার পণ্যের মান ও সেবার প্রতিশ্রুতি।

ব্রান্ড কি?

একটি কোম্পানির কোন প্রোডাক্ট বা সেবাকে ব্র্যান্ড বলা যেতে পারে। তাহলে সব ধরনের সব কোম্পানির প্রোডাক্ট বা সেবা ব্র্যান্ড নয় কেন? কারণ এখানে ক্রেতা এবং সেবাগ্রহণকারীর ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং বিশ্বাসযোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা ইত্যাদি নির্ভর করে। এইটি নির্ভর করে আপনি তাঁদেরকে টাকার বিনিময়ে তাঁদেরকে কি ধরনের সেবা বা কি মানের প্রোডাক্ট দিচ্ছেন।
তখনই একটা কোম্পানির প্রোডাক্ট ব্রান্ডে পরিনত হবে যখন কাস্টমার ঔ কোম্পানির প্রোডাক্ট গ্রহণ করবে এবং বিশ্বাস করবে।

আপনার সেক্টরে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী আছে, আপনি তাঁদের থেকে অতিরিক্ত কি সুবিধা দিচ্ছেন? (এইটা কে মার্কেটিং ভাষায় আগমেন্টেড প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বলে) আপনি কাদেরকে টার্গেট করে কেমন প্রোডাক্ট বানাচ্ছেন বা সেবা প্রদান করবেন? একবার কেউ আপনার প্রোডাক্ট ব্যবহার করে সন্তুষ্ট হলে আপনাকে আর টাকা খরচ করে মার্কেটিং করতে হবে না। আপনার কাছ থেকে কেউ যদি কোন প্রোডাক্ট কিনে সন্তুষ্ট থাকে তাহলে তার পরিচিত কাউকে আপনার প্রোডাক্ট কিনতে বলবে। তারপর সেও যদি সন্তুষ্ট হয়ে থাকে তাহলে সেও আরেকজনকে বলতে কিনতে। এভাবেই আপনার পণ্যের প্রসার সব জায়গায় ছড়িয়ে পরবে আপনার বাড়তি কোন খাটনি ছাড়াই! এইটা কে মার্কেটিং “ভাষায় ওয়ার্ড অফ মাউথ”(Word of Mouth) বলে। একবার যে কিনবে সে আপনার কোম্পানির প্রডাক্ট সব সময়ই কিনবে যদি না আপনি কখনো তাকে হতাশ না করেন।

তাহলে কিছু উধাহরন দেই:

অ্যাপল: অ্যাপল কোম্পানির ম্যাকবুক কম্পিউটার-ল্যাপটপ এবং এই সংক্রান্ত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, আর অবশ্যই আইফোন! আপনি কখনোই খুব সহজে অ্যাপল ফ্যানদের কে জোর করে অন্য কোন প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির প্রডাক্টে পরিবর্তন করতে পারবেন না। তারা অনেক লয়াল এই কোম্পানিটির উপর। তাঁদের অনেক অন্ধ বিশ্বাস এই কোম্পানিটির উপর। তারা বিশ্বাস করতেই চাইবে না এই কোম্পানিটি তাঁদের কখনো খারাপ কিছু দিবে। কোম্পানিও তাঁদের কাস্টমার হারানোর ভয়ে তাঁদেরকে নিরাস করতে চাইবে না। একবার যে ব্যাবহার করবে এবং উপকার-সুবিধা পেয়ে ভক্ত হয়ে যাবে সে সবসময়ই ব্যবহার করবে। আবার আরেকটা মানসিক ব্যাপার আছে, তার হাতে আইফোন আছে…আমার হাতে নাই, সবাই কিনছে…আমাকেও কিনতেই হবে! (মানসম্মান ও নাও থাকতে পারে) এই মানসিক ব্যাপারটা শুধুমাত্র আইফোন না, অন্যান্য প্রোডাক্টের ক্ষেত্রেও ক্রেতার এই মানসিক ব্যাপারটা কাজ করে।

স্যামসাং: Samsung কোম্পানি নিজেই একটা ব্র্যান্ড তার প্রডাক্টগুলো দিয়ে। এইখানে তারা Apple কোম্পানির তাদের মতো বিভিন্ন প্রোডাক্টের নাম অন্য কোন নাম না দিয়ে তাদের নিজ কোম্পানির নাম স্যামসাং দিয়েই প্রোডাক্টের নাম রেখেছে।

শাওমি: ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া শাওমি কর্পোরেশনের প্রডাক্ট গুলো এখন সারাবিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয়। বলুনতো শাওমির প্রডাক্ট গুলো কারা কিনে? কেনই বা কিনে? শাওমি কে মজা করে গরিবের আইফোন বলা হয়। বুঝতে না পারলে অথবা আগে জেনে থাকলেও উপরের লেখা গুলো আবার পড়ে আসুন। শাওমি টার্গেট করছে একটি নির্দিষ্ট রেঞ্জের কাস্টমার কে, আর অ্যাপল করছে উচ্চপর্যায়ের কাস্টমার কে। শাওমি ক্রেতা আকর্ষণ করার জন্য কম দামে বেশি সুবিধা সমৃদ্ধ মোবাইল দিয়ে আসার চেষ্টা করছে সব সময় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য।

শাওমির Mi, Redmi, Poco এই গুলা হলো শাওমির সাব-ব্র্যান্ড বা শাওমি কর্পোরেশনের অধীনে সাবসিডারি কোম্পানি। মাঝে মাঝে কিছু কিছু প্রডাক্টে সরাসরি Xiaomi লেখা থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top